প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং
টাঙ্গাইলের গৃহবধূকে নির্যাতন, চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে।

বছির আহমেদ ,মির্জাপুর -টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : মির্জাপুরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিমু আক্তার স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ চন্দ্র সরকার।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত আপন মিয়ার সঙ্গে প্রায় দেড় বছর আগে একই উপজেলার লতিফপুর গ্রামের শাজাহান মিয়ার মেয়ে শিমু আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
শিমুর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মোটরসাইকেল কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় ।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২১ মে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন আপন মিয়া। পরে ২৩ মে যৌতুকের টাকা না পেয়ে জোরপূর্বক শিমুর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। এরপর ২৯ মে তাকে নিয়ে উপজেলার ধেরুয়া জলকুটির এলাকায় ঘুরতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিমুর দাবি, ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে মারধর করে অচেতন অবস্থায় গ্রামের পাশের একটি সড়কে ফেলে রেখে চলে যান তার স্বামী। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী শিমু আক্তার বলেন, “স্বামীর সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আর সহ্য করা সম্ভব হয়নি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেনা সদস্য আপন মিয়া। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী শিমুর সঙ্গে অন্য একজনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাকে কোনো নির্যাতন করিনি। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল।”
লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি বলেন, “গৃহবধূর পরিবার একাধিকবার আমার কাছে এসেছিল। গ্রাম্যভাবে সমাধান না হওয়ায় তারা থানায় অভিযোগ করেছে।”
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
© দৈনিক চেতনার কন্ঠ